শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৫, ০৯:১২ পূর্বাহ্ন
থানা প্রতিনিধি॥ বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় সরকারের দেয়া গৃহহীনদের ঘর নির্মান প্রকল্পে বড় ধরনের দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কোন রকমের টিন কাঠ দিয়ে অর্ধনির্মিত ২শ ঘর ফেলে রেখেই বরাদ্দের পুরো টাকা উত্তোলন করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০৫টি ঘর নির্মানে ১ লক্ষ টাকা করে ২ কোটি ৫ লক্ষ টাকার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।
প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে টাকা তুলে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে গৃহহীনদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপক কুমার রায়ের দাবী প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হয়নি। তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে বিস্তর দূর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ইউএনওকে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নির্দেশনা থাকলেও তা পুরোপুরি উপেক্ষা করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপক কুমার রায়।
সূত্রে জানা গেছে, তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী আলিমুল্লাহ্ মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান করে ২ শতাধিক গৃহহীনদের একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরণ করে ঘর নির্মানের বরাদ্ধ চেয়ে আবেদন করেণ। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে ২০৫টি ঘর নির্মানের জন্য ১ লক্ষ টাকা করে ২ কোটি ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দেয় সরকার।
মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভায় ১৮, চরগোপালপুর ইউনিয়নে ৩৮, বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়নে ২৭, ভাষানচর ইউনিয়নে ৪৪, জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নে ৩১, শ্রীপুর ইউনিয়নে ১৪ এবং আলিমাবাদে ২৩টি সহ মোট ২০৫টি ঘরের প্রতিটি ঘর নির্মানের জন্য ১ লক্ষ টাকা করে বরাদ্ধ দেওয়া হয়। সমুদয় অর্থে ঘর নির্মান করে দেওয়ার পাশাপাশি ঘর নির্মানের জন্য গৃহহীন পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেয় সরকার।
২০১৯ সালের জুন মাসে প্রথম বরাদ্ধে ২০৫টি ঘর নির্মান প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু গৃহ নির্মানকারীদের নগদ অর্থ দেওয়ারতো দূরের কথা খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নির্দেশ উপেক্ষা করেছেন ইউএনও দীপক কুমার রায়।
তিনি তালিকাভূক্ত গৃহহীনদের উপজেলায় ডেকে এনে কোন রকম টিন, নিুমানের কাঠ ও নিুমানের খুঁটি দিয়েছেন তাতে ঘরের অর্ধেক নির্মান করা গেছে। এছাড়াও মেঝে করার জন্য ইট ও নগদ ১০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। ইউএনও’র এমন দূর্নীতির চিত্র এখন সরেজমিনে প্রতিয়মান রয়েছে। এদিকে অপর একটি সূত্রের দাবী প্রথম প্রকল্পে ২০৫টি ঘর নির্মানের নির্দেশনা থাকলেও পরবর্তীতে আরো ২১০টি ঘরের বরাদ্ধ আসে।
ইউএনও প্রথম দফার ২০৫টি ঘর নির্মান প্রকল্পের কাজ না করেই বাস্তবায়ন দেখিয়ে সমুদয় অর্থ তুলে নেয় ব্যাংক হিসাব থেকে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপক কুমার রায় গণমাধ্যমকে জানান, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না করা গেলেও এখন ২৫ লক্ষ টাকা ব্যাংকে রক্ষিত আছে। পাশাপাশি ঘর নির্মানের ক্ষেত্রে অনিয়মত দূর্নীতির কথা অস্বীকার করে বলেন গৃহহীনদেরকে পাওনা ১০ হাজার টাকা খুব শীঘ্রই বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
Leave a Reply